ফেসবুকে ২ লাখ ফলোয়ার থাকার পরও নির্বাচনে ভোট পেলেন মাত্র ৩৩টি! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা কি ভোটের মাঠে কাজে আসে না?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেই যে নির্বাচনে বিপুল ভোট পাওয়া যাবে, এমনটা নয়—এ কথাই যেন আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এক ব্যক্তিকে ঘিরে। ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ, অথচ নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩৩টি ভোট! অনলাইনে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকার পরও ভোটের বাক্সে এত কম ভোট পাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কৌতূহল তৈরি করেছে।
বর্তমান সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জনের বড় মাধ্যম। কেউ নিজের বক্তব্য, কেউ সামাজিক কর্মকাণ্ড, আবার কেউ বিনোদনমূলক ভিডিওর মাধ্যমে হাজার হাজার কিংবা লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। অনেকেই এই অনলাইন জনপ্রিয়তাকে বাস্তব জীবনের গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল অনেক সময় সেই ধারণার সঙ্গে মেলে না।
দুই লাখ অনুসারী মানেই কি দুই লাখ সমর্থক?
ফেসবুকে দুই লাখ অনুসারী থাকা নিঃসন্দেহে একটি বড় সংখ্যা। তবে একজন ব্যক্তির ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল অনুসরণ করা আর নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কেউ তাঁর ভিডিও পছন্দ করতে পারেন, বক্তব্য শুনতে পারেন কিংবা বিনোদনের জন্য তাঁকে অনুসরণ করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেই ব্যক্তিকেই ভোট দেবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীরা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা কিংবা দেশের বাইরেও থাকতে পারেন। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হওয়া জরুরি। ফলে অনলাইনে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকলেও তাঁদের সবাই সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার নাও হতে পারেন।
নির্বাচনে ভোট কম পাওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?
নির্বাচনে একজন প্রার্থীর ফলাফল নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। প্রার্থীর পরিচিতি, নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, রাজনৈতিক সংগঠন, প্রচারণা, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে অবস্থান এবং ভোটারদের আস্থা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনলাইনে জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি বাস্তব নির্বাচনী মাঠে কতটা পরিচিত, ভোটারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কেমন এবং নির্বাচনের সময় তিনি কতটা কার্যকর প্রচারণা চালাতে পেরেছেন, সেগুলোও বিবেচ্য। আবার কোনো প্রার্থীর অনুসারীদের একটি বড় অংশ বিনোদনমূলক কনটেন্টের দর্শক হতে পারেন, যাঁরা তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত নন।
তবে নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কেন মাত্র ৩৩টি ভোট পড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে হলে তাঁর পরিচয়, কোন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, কোন এলাকার প্রার্থী ছিলেন এবং সরকারি ফলাফলের তথ্য জানা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই ঘটনা সত্য হলে এটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—অনলাইনে পরিচিতি তৈরি করা আর নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের প্রতিক্রিয়া, লাইক, শেয়ার ও ফলোয়ারের সংখ্যা জনপ্রিয়তার একটি ধারণা দিতে পারে; কিন্তু ভোটের মাধ্যমে সেই জনপ্রিয়তা কতটা সমর্থনে রূপান্তরিত হয়, তা নির্ধারণ করে বাস্তব নির্বাচনী পরিস্থিতি।
তাই শুধু ফেসবুকের অনুসারীর সংখ্যা দেখে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা কঠিন। একইভাবে মাত্র ৩৩টি ভোট পাওয়ার কারণও যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট করে বলা উচিত নয়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ফেসবুকে দুই লাখ অনুসারী থাকার পরও যদি একজন প্রার্থী মাত্র ৩৩টি ভোট পান, তাহলে তাঁর অনলাইন জনপ্রিয়তা কি বাস্তব জীবনের সমর্থনে রূপ নিতে পারেনি?
দ্রষ্টব্য: এখানে ব্যক্তির নাম, নির্বাচনের ধরন ও ফলাফলের নির্ভরযোগ্য সূত্র দেওয়া হয়নি। তাই ঘটনাটির সত্যতা এবং ভোটের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
