আমি শ্বশুরবাড়ি যাবো মা বাবার কাছে যাবো না

আমি শ্বশুরবাড়ি যাবো..! মা বাবার কাছে যাবো না…!😭
গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বগুড়া আদালত চত্বরের একটা ভিডিও মারা,ত্মক ভাইরাল। একদিকে পুলিশ বাবা, অন্যদিকে প্রেমিক আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী তাসনিয়া রানা তামান্না।
গল্পের শুরু গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। তামান্না প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তার বাবা রানা মাসুদ যিনি একজন পুলিশ কনস্টেবল। মেয়ে নিঁখোজের পর তিনি থানায় একটা অপহরণ মামলা করেন।
পরে ডিবি পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে ৪ মাসের জন্য রাজশাহীর সেফ হোমে রাখা হয়। কারণ তখনো তামান্না নাবালিকা ছিল।
তো এখন তামান্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে।সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে নিজের জিম্মায় যাওয়ার আদেশ দেন।
তবে আদালতে তামান্না স্পষ্ট জানিয়ে দেয়,
“আমাকে কেউ অপহরণ করেনি, আমি নিজের ইচ্ছায় এসেছি আর আমি আমার শ্বশুরবাড়ি যেতে চাই।”
আদালত থেকে তামান্না বের হতেই শুরু হয় তুলকালাম। তার বাবা-মা জোর করে তাকে একটা কালো হাইস মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করেন।
তামান্না “আমি যাবো না” বলে চিৎকার করতে থাকে এবং ধস্তাধস্তিতে তার পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে যায়। ওদিকে ছেলে পক্ষের উকিল ও মেয়ে পক্ষের মধ্যে চরম হাতাহাতি লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণ যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়! পরবর্তীতে পুলিশ এসে তামান্নাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং রাতেই সে নিজের ইচ্ছায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে তার শ্বশুরবাড়ি চলে যায়।😑
তামান্না শ্বশুরবাড়ি গেলেও তার বাবার দাবি একটাই, মেয়ের ১৮ হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু ছেলের মানে তামান্নার প্রেমিক + জামাই শহীদের বয়স তো ২০! বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী, বিয়ের জন্য ছেলের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে। যেহেতু ছেলের ২১ হয়নি, তাই আইনিভাবে এই বিয়ে অবৈধ এবং এটা বাল্যবিবাহের শামিল। বাবা এখন এই আইনের ধারা নিয়েই মামলা চালিয়ে যেতে চান এবং ছেলের জেল না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজের জীবনসঙ্গী ও ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তামান্নার অধিকার এবং আদালত সেই অধিকারেরই স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যপক্ষের মতে, সন্তানের সুরক্ষায় বাবা-মায়ের উদ্বেগ স্বাভাবিক এবং দেশের প্রচলিত আইনের (ছেলের বয়স ২১ বছর হওয়া) প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত ছিল।
কি মনে হয় আপনাদের?? তামান্না কি ঠিক কাজ করেছে?? নাকি তার মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়া উচিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *