দের বিচার হয় নাই
এখন তাহসিব সৌরির বিচার কি হবে বাংলাদেশে এমন কিছু আলোচিত ঘটনা রয়েছে বছরের পর বছর পার হলেও যেগুলোর রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। তাহসিব সৌরির ঘটনাও কি সেরকম রহস্যই থেকে যাবে?
এমন প্রশ্ন কারো কারো মনে। অতীতে ওসমান হাদী সাগর রুনি ও সোহাগী জাহান তনুর প্রাণ হারানোর ঘটনাগুলোও বিচার বা মীমাংসার মুখ দেখেনি।
( প্রথমেই ) বলতে হয় সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনির কথা। 2012 সালের 11ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার সাংবাদিক মেহেরুন রুনি। শুরুতে মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে। পরে দায়িত্ব পায় র্যাব। কিন্তু দীর্ঘ সময়ও এর উদ্দেশ্য এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। 2024 সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠন করা হয় উচ্চ পর্যায়ের টাস্ক ফোর্স। 2026 সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে 130 বার। হাইকোর্ট টাস্ক ফোর্সকে আরো ছয় মাস সময় দিয়েছে। অথচ ঘটনার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 48 ঘন্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন
( দ্বিতীয় ) ঘটনাটি সোহাগী জাহান তনুর। 2016 সালের 20শে মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তনু। পরের সেনানিবাসের ভেতর থেকে তার ম-র-দেহ উ/দ্ধার করা হয়। এ মামলায় সিআইডি দীর্ঘদিন তদন্ত করেও রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। পরে 2020 সালে তদন্ত ভার পায় পিবিআই। তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেলেও এতদিন সেগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। 2026 সালের এপ্রিলে তদন্তের অংশ হিসেবে তিন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের একজনকে গ্রেফতারও করা হয়। জুলাইয়ে আরো দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেয় আদালত। এক দশক পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি এলেও এখনো চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। এবারের ঘটনাটি তানভীর মোহাম্মদ তকির। 2013 সালের 6 মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হয় 17 বছর বয়সী শিক্ষার্থী তকি। দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমদিনী শাখা খাল থেকে তার নি-থ-র দেহ উদ্ধার করা হয়। তকির বাবা রফিউর রাব্বি শুরু থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছেন। মামলায় কয়েকজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। 2026 সালের আগস্টে মামলার 105 তম শুনানিতেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি র্যাব। ফলে এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও তকির বিচার এখনো শুরুই হয়নি।
এবারের ঘটনাটি শরীফ ওসমান হাদীর। যেটা খুব বেশি আগের না। 2025 সালের 12ই ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী। 18 ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ই/ন্তে/কাল করেন। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ 2026 সালের জানুয়ারিতে 17 জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু বাদীপক্ষ তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেন। এদিকে হাদীকে শু*/ট করার পেছনে যারা জড়িত তাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং সেখানে গ্রে/ফ/তার হওয়ার মত বিষয়গুলোও আলোচিত। তবে বাংলাদেশে এখনো এর কোন মীমাংসা হয়নি।
