এই পৃথিবীতে যার বাবা নামক বটগাছটা নেই, সে শুধু জানে কতটা ক*ষ্ট করে বেঁচে থাকতে হয়,
বাবাকে বলব, তোমার মামুনি পেরেছে, কিন্তু তুমি দেখে যেতে পারলে না। যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। 
আমার বাবা সবসময় বলতেন, ‘মামুনি তোমাদের জন্য সেরা হবে।’ বাবা আমার প্রতি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমনকি আমার এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনও বাবা অনেক অসুস্থ ছিলেন। সেই অসুস্থ অবস্থায় হাতে ক্যানোলা নিয়েই তিনি আমাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাবার ইচ্ছা ছিল, মামুনির পরীক্ষা মামুনির সঙ্গেই তাঁকে যেতে হবে।
আমার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং এই সাফল্য আমি আমার বাবা, মা ও বোনকে উৎসর্গ করলাম। এই সাফল্য শুধু তাঁদের জন্য।
আমার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন অ্যাডভোকেট ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান একজন মানুষ ছিলেন। নিজের জীবন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করতেন। প্রতিটি কাজের প্রতিই তাঁর বিশেষ যত্ন ও দায়িত্ববোধ ছিল।
বাবার সবসময় ইচ্ছা ছিল, আমি যেন মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাই, আর সেটি যেন ঢাকা মেডিকেল কলেজেই হয়। বাবা আমাকে কখনো নাম ধরে ডাকতেন না। সবসময় ‘মামুনি’ বলেই ডাকতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, তাঁর মামুনি একদিন তাঁর স্বপ্ন পূরণ করবে।
বাবা চাইতেন, আমি যেন সবসময় সততার সঙ্গে জীবনযাপন করি, কোনো দিন মিথ্যার আশ্রয় না নিই। আমিও বাবার সেই আদর্শ ধরে রেখে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ এগিয়ে নিতে চাই।
সবার কাছে দোয়া চাই, যেন আমি বাবার সেই স্বপ্ন ও ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। বাবাকে বলতে চাই, তোমার মামুনি পেরেছে, কিন্তু তুমি দেখে যেতে পারলে না। যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। তোমার আশীর্বাদের হাত যেন সবসময় আমার মাথার ওপর থাকে
