স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম-কানুন: যা প্রত্যেক মুসলিম দম্পতির জানা উচিত
ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে ভালোবাসা, দয়া, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করে। স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্কও ইসলামে বৈধ ও ইবাদতের অংশ হতে পারে, যদি তা শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, পারস্পরিক সম্মতি ও সম্মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়।
সহবাসের আগে স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরের প্রতি কোমল আচরণ করা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা। ইসলামী শিক্ষায় পারস্পরিক অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক বা সঙ্গীর অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করে সম্পর্ক স্থাপন ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসলামী সূত্রে সহবাসের আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করে নির্ধারিত দোয়া পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, এটি আল্লাহর কাছে বরকত ও সুরক্ষা কামনার একটি মাধ্যম।
নারীর মাসিক চলাকালে সহবাস করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এছাড়া সন্তান জন্মের পর প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (নিফাস) চলাকালেও সহবাস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। পবিত্রতা ফিরে এলে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন পুনরায় শুরু করা যায়।
সহবাসের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর গোসল (গোসলে জানাবাত) ফরজ হয়। এরপরই নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য ইবাদত করা যায়। তাই পবিত্রতা অর্জন ইসলামী বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সমান গুরুত্ব দেয়। একজনের চাহিদা, অনুভূতি ও শারীরিক-মানসিক অবস্থার প্রতি অন্যজনের যত্নশীল হওয়া একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবনের লক্ষণ।
সর্বোপরি, ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বস্ততা, দয়া এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলা। শরিয়তসম্মত নিয়ম অনুসরণ করলে দাম্পত্য জীবন আরও শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও বরকতময় হতে পারে।
