মাত্র ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি। আইসক্রিম কিনতে গিয়ে আর নিজের ঘরে ফিরতে পারেনি সে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী মুদি দোকানি মোস্তফা প্রামাণিক তাকে দোকানের পেছনের ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে ইয়াছিনের নামও উঠে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর কলির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। কয়েকদিন পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহটি একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় সাত দিন পর কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। যে বাড়িটিকে কেউ কেউ ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ বলে উল্লেখ করতেন, জনতার ক্ষোভে সেটিই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তবে একটি অপরাধের দায় পুরো পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
কলি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। এখন পরিবারের একটাই দাবি—সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের কঠোর আইনগত শাস্তি এবং শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার।
