মসজিদে জমি দান করায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল নিজের সন্তান!
একজন মা সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেন, তাদের সুখের জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেন। কিন্তু সেই মায়ের শেষ বয়সে যদি আশ্রয় হয় একটি বৃদ্ধাশ্রম, তাহলে এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?
এই বৃদ্ধা মা মসজিদের জন্য নিজের কিছু জমি দান করেছিলেন। আর সেই কারণেই নাকি সন্তানদের কাছে তিনি হয়ে যান অবাঞ্ছিত। তাঁর ভাষায়, জমি দানের পর থেকেই ছেলেরা তাকে বাড়িতে রাখতে চায়নি। তাদের সাফ কথা ছিল— জমি থাকলে থাকার জায়গা আছে, আর জমি না থাকলে তার জন্যও কোনো জায়গা নেই।
বয়সের ভারে অনেক কিছু ভুলে গেলেও ছেলে হাফিজুলের নাম এখনো মনে আছে তাঁর। ছেলে আর নাতনির কথা উঠতেই ভিজে ওঠে চোখ। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় নাতিকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, আবার নিয়ে আসতেন। কত কষ্ট আর ত্যাগের বিনিময়ে সন্তানদের বড় করেছেন, আজও সেই সন্তানদের জন্যই তাঁর মন কাঁদে।
একই আশ্রয়ে থাকা আম্বিয়া বেগমের গল্পও কম কষ্টের নয়। নাতনির বাড়িতে যাওয়ার পথে বাসের হেলপারের হাতে ১৫ হাজার টাকা হারিয়ে পথে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসেন। আজ তাঁরও আপন বলতে কেউ নেই।
এমন অসংখ্য বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছে বৃদ্ধাশ্রম। সেখানে রক্তের সম্পর্ক নয়, মানবিকতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
যে মা-বাবা নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়েন, তাদের শেষ বয়সে প্রয়োজন হয় না ধন-সম্পদের; প্রয়োজন হয় শুধু একটু ভালোবাসা, সম্মান, যত্ন আর পাশে থাকার আশ্বাস।
আসুন, আমরা আমাদের মা-বাবার প্রতি দায়িত্বশীল হই। কারণ আজ তারা বৃদ্ধ, একদিন আমরাও হবো।
মসজিদে জমি দান করায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল নিজের সন্তান!… See more
