Headlines

মা*সিকের ৫ দিন পর স-হ-বা-স করলে কি হয়

মাসিকের ৫ দিন পর সহবাস করলে কী হয়? গর্ভধারণের ঝুঁকি কতটা
মাসিক শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর সহবাস করা নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে। কেউ মনে করেন, মাসিক শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর সহবাস করলে গর্ভধারণের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। আবার কেউ মনে করেন, এ সময় সহবাস করলে শরীরে বিশেষ কোনো সমস্যা হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করে নারীর মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটনের সময় এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহারের ওপর।

মাসিক চক্রের প্রথম দিনকে সাধারণত মাসিকের প্রথম দিন হিসেবে গণনা করা হয়। ডিম্বস্ফোটন সাধারণত পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৬ দিন আগে হতে পারে। ফলে কারও চক্র ছোট হলে মাসিক শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ডিম্বস্ফোটন শুরু হতে পারে।

এ কারণে মাসিক শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর সহবাস করলেই গর্ভধারণ হবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে মাসিক চক্র যদি ছোট বা অনিয়মিত হয়, তাহলে ডিম্বস্ফোটনের সময় অনুমানের চেয়ে এগিয়ে আসতে পারে। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী, মাসিক শেষ হওয়ার পরপরই গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম হলেও তা সম্ভব, বিশেষ করে দ্রুত ডিম্বস্ফোটন হলে।

এর একটি কারণ হলো শুক্রাণু নারী প্রজননপথে কয়েক দিন জীবিত থাকতে পারে। Mayo Clinic বলছে, শুক্রাণু সাধারণত প্রায় ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। NHS-ও বলছে, কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণু আরও কয়েক দিন টিকে থাকতে পারে। তাই সহবাসের কয়েক দিন পর ডিম্বস্ফোটন হলেও গর্ভধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ধরা যাক, কারও মাসিক চক্র ২৮ দিনের। এই ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন সাধারণত পরবর্তী মাসিকের প্রায় ১৪ দিন আগে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই নয়। কারও চক্র ২১ দিন, আবার কারও ৩০–৩৫ দিন বা তারও বেশি হতে পারে। তাই শুধু মাসিক শেষ হওয়ার কত দিন হয়েছে—এই হিসাব দিয়ে গর্ভধারণের ঝুঁকি নির্ধারণ করা নির্ভুল নয়।

তাহলে কি এ সময়ে সহবাস করা যায়?
হ্যাঁ। শুধু মাসিক শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর হয়েছে বলেই সহবাস নিষিদ্ধ বা শারীরিকভাবে ক্ষতিকর—এমন কোনো সাধারণ চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। দুজনের সম্মতি থাকলে এবং কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকলে সহবাস করা যেতে পারে।

তবে গর্ভধারণ এড়াতে চাইলে শুধু “মাসিকের পরের দিন” বা “পাঁচ দিন পর” হিসাব করে অসুরক্ষিত সহবাসকে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়মিত গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা বেশি নির্ভরযোগ্য।

গর্ভধারণের সম্ভাবনা কখন বেশি?
গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে ডিম্বস্ফোটনের আশপাশের সময়ে। ডিম্বস্ফোটনের কয়েক দিন আগে থেকে শুরু করে ডিম্বস্ফোটনের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত অসুরক্ষিত সহবাস হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ শুক্রাণু কয়েক দিন জীবিত থাকতে পারে এবং ডিম্বাণু ডিম্বস্ফোটনের পর সীমিত সময় নিষিক্ত হওয়ার উপযোগী থাকে।

অসুরক্ষিত সহবাস হয়ে গেলে কী করবেন?
যদি গর্ভধারণ না চান এবং গর্ভনিরোধক ছাড়া সহবাস হয়ে থাকে, তাহলে জরুরি গর্ভনিরোধক নিয়ে দ্রুত চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কিছু জরুরি গর্ভনিরোধক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার করতে হয় এবং যত দ্রুত নেওয়া যায়, তত ভালো কাজ করতে পারে।

পরবর্তী মাসিক নির্ধারিত সময়ে না এলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যেতে পারে। আর সহবাসের পর অস্বাভাবিক রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, মাসিকের পাঁচ দিন পর সহবাস করলে নিজে থেকে কোনো বিশেষ ক্ষতি হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে এ সময়কে শতভাগ “নিরাপদ সময়” ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য ও ডিম্বস্ফোটনের সময়ের ওপর গর্ভধারণের সম্ভাবনা নির্ভর করে। তাই গর্ভধারণ এড়াতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *