সন্তানকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন বাবা!
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ-মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন হাওরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা কাঁদিয়েছে পুরো দেশকে।
ঢাকায় কর্মরত ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন হাওরে। আনন্দময় সেই ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের মাতমে। গোসলের সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে তাঁর আদরের মেয়ে সেমন্তী।
সন্তানকে বিপদে দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি বাবা। নিজের জীবনের কথা না ভেবে প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে বারবার ধাক্কা দিয়ে মেয়েকে নিরাপদ স্থানে তুলে দেন। মেয়ে বেঁচে গেলেও, নির্মম স্রোতের টানে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যান সেই সাহসী বাবা। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেমন্তী জানায়,
“বাবা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওপরে তুলে দিলেন, কিন্তু নিজের আর ফেরা হলো না। আমরা তিনটি ওড়না একসঙ্গে বেঁধে বাবার দিকে ছুড়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় বাবা সেটা ধরতে পারেননি। যদি জানতাম বাবা আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে যাবেন, তবে কোনোদিনও ওই পানিতে নামতাম না…”
একজন বাবা সন্তানের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবেন মো. বাছির উদ্দিন মিলন। নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে তিনি রক্ষা করেছেন সন্তানের জীবন। এমন আত্মত্যাগ চিরকাল মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা এই মহান পিতাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
