Headlines

ক’র্মক’র্তাদের ব্য’/ক্তিগ’ত কাজে ডাক পড়ে দুই না’/রী ক’/র্মচা’রীর

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করলেও দুই নারী কর্মচারীকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজের পরিবর্তে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বাসায় কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত কাজে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেছেন পৌরসভার একাধিক কর্মচারী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত দুই নারী কর্মচারী হলেন রিতা রানী ও নাসিমা বেগম। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সব অংশ তাঁরা স্বীকার করেননি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রশাসকের বাসায় চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর তিনি দুপুরের দিকে আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে আসেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় রিতা রানীও প্রশাসকের বাসা থেকে ফিরে আসার কথা জানান এবং অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়মিতই সেখানে যেতে হয় বলে জানান।

পৌরসভার একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োজিত কর্মীদের দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, রিতা রানীকে নিয়মিত এবং নাসিমা বেগমকে মাঝেমধ্যে প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। কখনো কখনো দুজনকেই একই সময়ে সেখানে যেতে হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত কাজে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো। এতে কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রশাসক ছোট একটি সন্তান নিয়ে একা থাকেন। তাঁর বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের লোক থাকলেও মাঝে মাঝে প্রশাসকের অনুরোধে রিতা রানীকে শিশুটির দেখাশোনার জন্য পাঠানো হয়। অর্থাৎ কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে পাঠানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করে তিনি এর পেছনে শিশুর দেখাশোনার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, মাঝে মাঝে রিতা রানীকে তাঁর বাসায় নেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ছোট সন্তান নিয়ে একা থাকেন এবং প্রয়োজনের সময় শিশুটির দেখাশোনার জন্য ওই কর্মচারীকে ডাকা হয়।

তবে অফিস সহায়ক পদে নিয়োজিত কোনো কর্মচারীকে তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহার করা উচিত কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন প্রশ্নের জবাবে লাকি দাস নিজেই বলেছেন, বিষয়টি নিয়মসম্মত নয়; তবে পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যে এমনটি করতে হয়েছে। গণমাধ্যমের আপত্তির পর ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করাবেন না বলেও তিনি জানান।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বিষয়টিকে মানবিক দিক থেকেও দেখার কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একা থাকেন এবং তাঁর ছোট সন্তান রয়েছে। তবে নড়িয়া পৌরসভা উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয় বলে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চাননি। একই সঙ্গে সহকর্মী হিসেবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কাজ না করা হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মচারীর নিয়োগের দায়িত্ব ও দাপ্তরিক কাজ যদি পৌরসভায় হয়, তাহলে তাঁকে ব্যক্তিগত বাসায় কাজের জন্য পাঠানো কতটা গ্রহণযোগ্য? অভিযোগটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বের সীমা এবং কর্মচারীর অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। আবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টির পেছনে ব্যক্তিগত গৃহস্থালি কাজের বদলে শিশুর দেখাশোনার প্রয়োজন ছিল। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগটি এখনো প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। একদিকে কয়েকজন কর্মচারী এমন অভিযোগ করেছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তা অস্বীকার করেছেন। ফলে এ অংশটিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত, নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়।

সব মিলিয়ে, নড়িয়া পৌরসভায় দুই নারী অফিস সহায়ককে কর্মকর্তার বাসায় ব্যক্তিগত কাজে পাঠানোর অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসক ও কর্মকর্তারা কর্মচারীদের বাসায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, তবে চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগ নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। এখন বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত সামনে এলে অভিযোগগু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *