৪ বউয়ের একসাথে বাচ্চা হয়েছে, গ্রামের লোকজন দেখতে আসছে, চার বা’চ্চা হওয়ার পর স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না, চার বউ চার বা’চ্চা লালন পালন করার অবস্থা আর নাই…
গ্রামের মানুষজন আজও সেই দিনের কথা মনে করলে অবাক হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল রংপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। গ্রামের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা ছিলেন হাশেম আলী। তাঁর চার ছেলে—রাকিব, সাকিব, নাসির ও ফারুক। চার ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল চারজন ভিন্ন পরিবারের মেয়ের সঙ্গে। চার বউ—মায়া, শিউলি, রোজিনা ও তানিয়া—একসঙ্গে সংসার করলেও তাদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব।
বিয়ের কয়েক বছর পর একদিন আশ্চর্যজনক খবর ছড়িয়ে পড়ল—চার বউই মা হতে চলেছেন! প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সবাই আনন্দ করলেও কেউ ভাবেনি, চারজনের সন্তান প্রায় একই সময়ে পৃথিবীর আলো দেখবে।
সময় যত এগোতে লাগল, চার বউয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো। তারা একে অপরের খোঁজখবর নিত, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলত এবং ভবিষ্যতের সন্তানদের নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখত। শাশুড়ি আমেনা বেগমও চারজনকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রাখতেন।
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সময় এল। এক রাতে মায়ার প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলো। পরিবারের সবাই তখন তার পাশে। কিছুক্ষণ পর সুখবর এল—মায়ার একটি সুস্থ ছেলে হয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, পরের দিন শিউলিরও প্রসববেদনা শুরু হলো। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। কয়েক ঘণ্টা পর শিউলি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন।
পরিবারের আনন্দ তখন যেন আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। তার পরদিন রোজিনারও সন্তান জন্ম নিল। তিন দিনের মধ্যেই তিনটি নতুন প্রাণ পরিবারে যোগ হলো।
চতুর্থ দিন তানিয়ার প্রসববেদনা শুরু হলে সবাই আবার হাসপাতালে ছুটল। এবারও সুস্থ সন্তান জন্ম নিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চার বউয়ের ঘর আলো করে এল চারটি শিশু।
হাসপাতালের কেবিনে চার মা যখন পাশাপাশি শুয়ে সন্তানদের কোলে নিলেন, তখন তাদের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। চার ভাইও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমাদের পরিবার আজ সত্যিই পূর্ণ হলো।”
গ্রামে খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সবাই দেখতে আসতে লাগল। কেউ মিষ্টি নিয়ে এল, কেউ শিশুদের জন্য পোশাক। হাশেম আলী বললেন, “এই চার সন্তান আমাদের পরিবারের জন্য শুধু আনন্দ নয়, চারটি নতুন আশীর্বাদ।”
সেই দিন থেকে গ্রামের মানুষ মজা করে চার শিশুকে ডাকত—“চার ভাইবোনের একসাথে আসা চারটি সুখের খবর।” আর পরিবারটির কাছে সেই কয়েকটি দিন হয়ে রইল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।
