৪০ বছরের জিন্নাহ প্রেমে পড়েছিলো ১৬ বছরের রুত্তির….
২০ এপ্রিল, ১৯১৮। বম্বের অন্যতম ধনী পার্সি ব্যবসায়ী স্যার দিনশা পেটিট সকালে খবরের কাগজ ‘বম্বে ক্রনিক্যাল’ পড়তে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যান। ৮ নম্বর পাতায় খবর, তাঁর প্রিয় ১৮ বছরের কন্যা রত্নবাঈ পেটিট (রুত্তি) আগের দিন বিয়ে করেছেন ৪২ বছর বয়সী মুসলিম ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে!
গল্পের শুরু আরও দুই বছর আগে, দার্জিলিংয়ের পাহাড় চূড়ায়। স্যার দিনশা তাঁর বন্ধু জিন্নাহকে পরিবারসহ বেড়াতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে ১৬ বছরের রূপসী রুত্তি আর ৪০ বছরের জিন্নাহর মধ্যে এক গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জিন্নাহ সোজা তার বন্ধু দিনশার কাছে রুত্তির হাত চান।
কিন্তু দুই ধর্মের মেলবন্ধনে জাতীয় ঐক্যের কথা বলা দিনশা নিজের মেয়ের ক্ষেত্রে তা মানতে পারেননি। রেগে গিয়ে জিন্নাহকে ঘর থেকে বের করে দেন এবং মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত জিন্নাহর সাথে দেখা না করার আইনি নির্দেশ জারি করেন।
এত কিছু করেও রুত্তি আর জিন্নাহর লুকিয়ে দেখা করা বা একে অন্যকে চিঠি লেখা থামাতে পারেননি স্যার দিনশা পেটিট।
একবার রুত্তি কে একটি চিঠি পড়তে দেখে ফেলেন দিনশা। চিৎকার করে ওঠেন তিনি, এটা নিশ্চয়ই জিন্নাহর চিঠি। রুত্তি কে ধরার জন্য খাবার টেবিলের চারদিকে দৌড়াতে থাকেন স্যার দিনশা, যাতে হাতেনাতে ধরে ফেলা যায় জিন্নাহর চিঠিটা। কিন্তু মেয়েকে ধরতে পারেননি তিনি।
স্যার দিনশা অসম্ভব জেদি ছিলেন, কিন্তু অসমবয়সী এই প্রেমিক যুগলের জেদ যে আরও বেশি, সেটা দিনে দিনে বেশ বুঝা যেতে লাগল। তবে দুই পক্ষই কিছুটা মাথা ঠান্ডা রেখে চুপচাপ রুত্তি-র ১৮ বছর বয়স পার হওয়া অবধি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো।
১৯১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লেডি রুত্তি ১৮-তে পা দিলেন। আর সেদিনই একটা ছাতা আর এক জোড়া পোশাক নিয়ে পিতৃগৃহ ত্যাগ করলেন তিনি।
রুত্তি কে জামিয়া মসজিদে নিয়ে গেলেন জিন্নাহ। ইসলাম ধর্মান্তরিত করে পরের দিন, ১৮ এপ্রিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আর লেডি রুত্তি র নিকাহ সম্পন্ন হলো।
রুত্তি ও জিন্নাহ-কে নিয়ে একটি বইয়ের লেখক খওয়াজা রাজি হায়দার বলছেন, ‘জিন্নাহ তখন ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যদি তিনি সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিয়ে করতেন, তাহলে সম্ভবত তাকে কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করতে হতো। সেজন্যই তিনি ইসলামী মতে বিয়ে করেছিলেন আর রুত্তি ও রাজি হয়েছিলেন এতে।’
নিকাহনামায় ১০০১ টাকা মোহরের উল্লেখ ছিলো, কিন্তু জিন্নাহ রুত্তি কে উপহার দিলেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সেসময়ে সেটা বিশাল অংকের টাকা।
২৪ বছরের ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে জিন্নাহর বিবাহ সেই সময়ে ভারতীয় সমাজের এক নম্বর গসিপে পরিণত হয়েছিল।
জওহরলাল নেহরুর বোন, বিজয়লক্ষী পন্ডিত তার আত্মকথা, ‘দ্য স্কোপ অব হ্যাপিনেস’ বইতে লিখছেন, ‘পার্শি সম্প্রদায়ের বিরাট ধনী ব্যক্তি স্যার দিনশার মেয়ের সাথে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র বিয়ের ঘটনা গোটা দেশেই আন্দোলিত হয়েছিল। আমি আর রুত্তি মোটামুটিভাবে একই বয়সী। কিন্তু আমাদের দুজনের বড় হয়ে ওঠা ভিন্ন ঘরানায়। জিন্নাহ তখনকার নামী উকিল আর উঠতি নেতা। এসব কিছুই হয়তো রুত্তি র ভালো লেগে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই জন্যই পার্শি সম্প্রদায় আর নিজের বাবার প্রবল বিরোধিতা স্বত্ত্বেও জিন্নাহকে তিনি বিয়ে করেছিলেন।’
সরোজিনী নাইডুও ড: সৈয়দ মাহমুদকে পাঠানো একটি চিঠিতে জিন্নাহর বিয়ে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লিখেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত জিন্নাহ নিজের বাসনার নীল গোলাপটা তাহলে তুলেই নিলো। আমার মনে হয় মেয়েটি যে কত বড় আত্মত্যাগ করেছে, তা বোধহয় সে কল্পনাও করতে পারছে না। কিন্তু জিন্নাহর এটা কৃতিত্ব, সে রুত্তি কে খুবই ভালবাসে। আত্মকেন্দ্রিক আর চাপা স্বভাবের জিন্নাহর এটা একটা মানবিক চেহারা।’
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আরেক জীবনীকার হেক্টর বোলিথো তার বইতে এক বৃদ্ধা পারস্য মহিলার কথা উল্লেখ করেছেন, যার ধারণা ছিল যে সরোজিনী নাইডুরও জিন্নাহর প্রতি দুর্বলতা ছিল। কিন্তু জিন্নাহ সেটাকে পাত্তাই দেননি। বরং কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছিলেন সরোজিনীর প্রতি। যদিও সরোজিনী নাইডু তৎকালীন বম্বের নাইটিঙ্গেল বলেই মনে করা হতো, দারুণ সুরেলা গলা ছিল তার। কিন্তু সেই সুরেলা গলা জিন্নাহর মনে কোনো গান ধরাতে পারেনি।
তবে শীলা রেড্ডি সরাসরিই বলেছেন, সরোজিনী জিন্নাহর প্রেমে পড়েননি, কিন্তু উনি জিন্নাহকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন।
জিন্নাহর আরেক জীবনী লেখক আজিজ বেগ অবশ্য নিজের বইতে লেডি রুত্তি আর সরোজিনী নাইডু – এই দুজনেরই জিন্নাহর প্রতি প্রেম নিয়ে একটা আলাদা পরিচ্ছেদই লিখেছেন। নাম ‘টু উইনসাম উইমেন’।
আজিজ বেগ একটি ফরাসী প্রবাদ উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘একজন পুরুষের জন্যই দুই নারী একে অন্যকে অপছন্দ করতে শুরু করেন। কিন্তু সরোজিনীর মনে রুত্তি র প্রতি কোনোরকম ঈর্ষা দেখা যেত না। বাস্তব এটাই যে, জিন্নাহ আর রুত্তির বিয়েতে তিনি সাহায্যও করেছিলেন।’
১৯১৮ সালের সেই বসন্তে জিন্নাহ আর রুত্তির উচ্ছল, খুশীতে ভরপুর চেহারা দেখেই মনে হতো যে এরা একে অন্যের জন্যই যেন তৈরি হয়েছেন, হিন্দিতে যাকে বলে ‘এক দুসরে কে লিয়ে হি বানে’! রুত্তির অপূর্ব সুন্দর শরীরে ঝলমল করতো নীল বা গোলাপি রঙের পোষাক, কখনও তাতে থাকতো সোনালি কারুকাজ।
রূপা আর মার্বেল পাথরের তৈরি সিগারেট হোল্ডারে গোঁজা বিদেশি সিগারেটের ধোঁয়া যখন ছাড়তেন রুত্তি, তখন তার ব্যক্তিত্ব আলাদা মাত্রা পেত। তার চলাফেরা, আদবকায়দা তো চোখে পড়ার মতোই ছিল, কিন্তু চারপাশের মানুষের কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় হয়ে উঠত তার হাসি।
খাজা রাজি হায়দার লিখেছেন, ‘মেহমুদাবাদের রাজা আমির আহমদ খাঁয়ের বয়স তখন সাড়ে চার বছরের মতো হবে। যখন জিন্নাহ আর রুত্তি মধুচন্দ্রিমা করতে লক্ষ্ণৌ খাঁ সাহেবের বাবার প্রাসাদে গিয়েছিলেন।
রুত্তির পরনে ছিল সাদা শাড়ি, তাতে সোনালি আর কালো রঙের পাড়। যেন ঠিক একটা পরীর মতো লাগছিল তাকে। রাজা আমির খাঁ তারপরে রুত্তিকে দেখেন ১৯২৩ সালে, জিন্নাহ আর রুত্তি সেসময়ে দিল্লির মেন্ডেস হোটেলে ছিলেন। খেলনা কেনার জন্য আমির খাঁকে ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন তারা।’
রুত্তি আর জিন্নাহর বন্ধু কাঞ্জি দ্বারকা দাসও তার বইতে লিখেছেন, ‘তার দিক থেকে চোখ ফেরানো যেত না। যতক্ষণ না তিনি আমার নজর দেয়াটা ধরে ফেলছেন, ততক্ষণ সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতাম।’
রাজি হায়দার লেডি রুত্তি ও মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যাপারে একটা মজাদার ঘটনা লিখে গেছেন।
একবার বম্বের গর্ভনর উইলিংডন জিন্নাহ দম্পতিকে খেতে ডেকেছেন। রুত্তি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন একটা লো-কাট পোশাক পরে। খাবার টেবিলে যখন সবাই বসেছেন, তখন লেডি উইলিংডন নিজের সহচরকে বলেন যে রুত্তি জিন্নাহকে একটা শাল এনে দিতে, সম্ভবত তার শীত করছে।’
‘এটা শুনেই জিন্নাহ উঠে দাঁড়িয়ে বলেন যদি আমার স্ত্রীর শীত লাগে তাহলে তিনি নিজেই শাল চেয়ে নেবেন।’
স্ত্রীকে নিয়ে ডাইনিং হল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন জিন্নাহ। উইলিংডন গর্ভনর থাকাকালীন আর গর্ভনমেন্ট হাউসে যাননি তিনি। রুত্তির কথাবার্তা বেশ চাঁছাছোলা ছিল, স্পষ্টবাদী ছিলেন তিনি।
১৯১৮ সালে লর্ড চেমসফোর্ড রুত্তি ও জিন্নাহকে সিমলার ভাইসরয় লজে খেতে ডেকেছেন। হাতজোড় করে ভারতীয় কায়দায় ভাইসরয়কে অভিবাদন জানিয়েছিলেন রুত্তি । ভোজনের শেষে চেমসফোর্ড রুত্তিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তিনি যদি চান যে স্বামীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আরও ফুলে ফেঁপে উঠুক, তাহলে সেরকমই করা উচিত যেমনটা রোমে থাকলে রোমের বাসিন্দারা করে থাকেন।
রুত্তি সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিয়েছিলেন, ‘এক্সেলেন্সি, আমি তো ঠিক সেটাই করলাম, যেটা আপনি বলছেন! ভারতে আছি, তাই ভারতীয় কায়দায় আপনাকে অভিবাদন জানালাম!’
আরেকটি মজাদার ঘটনা উল্লেখ করেছেন রাজি হায়দার। কোনও এক ভোজসভায় ভাইসরয় লর্ড রিডিংয়ের পাশে বসেছিলেন লেডি রুত্তি।
জার্মানির কথা উঠেছিল। লর্ড রিডিং বলছিলেন যে তিনি জার্মানি যেতে চান, কিন্তু যু* দ্ধের পরে জার্মানরা ব্রিটেনের লোকদের পছন্দ করবে না, তাই সেখানে যাওয়া যাবে না।
রুত্তি মুখের ওপরেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তো আপনি ভারতে কী করতে এসেছেন?’
ইঙ্গিতটা স্পষ্ট ছিলো যে, ভারতীয়রাও তো আপনাদের পছন্দ করে না, তাহলে এদেশে কেন এসেছেন?
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যস্ততা আর স্ত্রীর সঙ্গে বয়সের ফারাক জিন্নাহ আর রুত্তি র মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে দিলো। তখন অল্পবয়সী স্ত্রী আর দুধের শিশুকন্যার জন্য দেয়ার মতো সময় তার হাতে বিশেষ ছিল না।
জিন্নাহর একসময়কার সচিব এম সি চাগলা, যিনি পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘আমি আর জিন্নাহ যখন কোনো আইনি বিষয়ে আলোচনা করতাম, তখন কয়েক সময়ে রুত্তি একটু বেশিই সাজগোজ করে চলে আসতেন আর জিন্নাহর টেবিলের ওপরে উঠে বসে পা দোলাতেন। মনে হতো যেন কখন জিন্নাহ কথাবার্তা শেষ করে তাকে নিয়ে বাইরে বের হবেন।
জিন্নাহর মুখ দিয়ে অবশ্য একটা শব্দও বের হতো না। কোনোরকম বিরক্তি প্রকাশ না করেই তিনি নিজের মতো কাজ করে যেতেন। যেন লেডি রুত্তি যে সেখানে আছে, সেটা তিনি দেখতেই পাননি- নিজের আত্মকথা ‘রোজেজ ইন ডিসেম্বর’- এ লিখেছেন চাগলা।
রাজি হায়দার অবশ্য মনে করেন, দুজনের মধ্যে একটা হালকা দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণটা ছিল রাজনৈতিক।
১৯২৬ সাল নাগাদ ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর যে অবস্থান ছিল, সেটা ১৯১৬ সালে তাদের বিয়ের সময়ের থেকে অনেক উঁচুতে। আর এই কতগুলো বছরে জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছেন। অন্যদিকে লেডি রুত্তি ও মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন।
একবার অসুস্থতার পরে ফ্রান্স থেকে এম এস রাজপুতানা নামের জাহাজে চেপে দেশে ফেরার সময়ে স্বামীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন রুত্তি । চিঠিতে জিন্নাহকে রুত্তি লিখেছিলো,
‘আমার জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি তোমাকে যতটা চেয়েছিলাম, আর কোনো পুরুষমানুষকেই কোনো নারী বোধহয় অতটা চায়নি কখনও। তুমি আমাকে ওই ফুলটার মতো করেই মনে রেখ যেটা ছিঁড়ে এনেছিলে। যে ফুলটাকে তুমি পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছ, সেটাকে মনে রাখার দরকার নেই’…
১৯২৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, মাত্র ২৯ বছর বয়সে রুত্তি জিন্নাহ মা* যান। শেষ সময়টায় তার সঙ্গী ছিলেন কাঞ্জি দ্বারকা দাস।
শীলা রেড্ডি লিখছেন, ‘কাঞ্চিই জানিয়েছিলেন যে শেষ দিনগুলোয় রুত্তি খুব মনমরা হয়ে থাকতেন। একবার কাঞ্জি রুত্তিকে বলেছিলেন তার আসতে একটু দেরি হবে। শুকনো মুখে রুত্তি জবাব দিয়েছিলেন, ‘ততক্ষণ অবধি যদি বেঁচে থাকি’।
পরে কাঞ্জিই এক পাকিস্তানি সাংবাদিককে বলেছিলেন অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহ** করেছিলেন রুত্তি.. ‘
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সেদিন দিল্লিতে ওয়েস্টার্ন কোর্ট ভবনে ছিলেন। তখনই একটা ট্রাঙ্ক কল আসে তার কাছে। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন শ্বশুর দিনশা পেটিট। দশ বছরের মধ্যে সেই প্রথমবার দুজনের কথা হয়।
মেয়ে যে খুব অসুস্থ, সেই খবরটা জিন্নাহকে জানিয়েছিলেন দিনশা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের দিকে রওনা হন।
পথেই ভাইসরয় আর অন্যান্য গণ্যমান্যদের টেলিগ্রাম আসতে থাকে, শোকজ্ঞাপন করা টেলিগ্রাম। জিন্নাহ বুঝতে পারেন যে রুত্তি আর এই পৃথিবীতে নেই। স্টেশন থেকে সোজা কবরস্থানে গিয়েছিলেন জিন্নাহ। সেখানে তার জন্যই সকলে অপেক্ষা করছিল।
সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হিসেবে যখন জিন্নাহকে অনুরোধ করা হয়েছিল কবরে মাটি দিতে, তখন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিলেন জিন্নাহ। সেই প্রথম, আর সেই শেষবার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জনসমক্ষে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল
