Headlines

৫০০ টা’/কার বি’/ল ৭০০০ টা’/কা আসায় মি’টার রি’/ডারকে আ

সাধারণত একটি পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল যেখানে কয়েকশ টাকা আসে, সেখানে হঠাৎ কয়েক হাজার টাকার বিল হাতে পেয়ে অনেকটাই হতবাক হয়ে যান গ্রাহকরা। এমনই একটি ঘটনায় ৫০০ টাকার আশপাশে থাকা বিদ্যুৎ বিল এক লাফে প্রায় ৭ হাজার টাকা আসায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিলের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ থেকে মিটার রিডারের সঙ্গে গ্রাহকের কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এক মাসে অস্বাভাবিক পরিমাণ বিল আসায় তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর মিটার রিডারের কাছে বিলের হিসাব জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট এবং মিটার রিডারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ঠিক কী কারণে ৫০০ টাকার মতো বিল বেড়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা হয়েছে, সেটি মিটার পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে মিটার রিডিং, পূর্ববর্তী মাসের ব্যবহার, বর্তমান রিডিং এবং বিলিং সিস্টেমে দেওয়া তথ্য—সবকিছুর ওপর বিলের পরিমাণ নির্ভর করে। কোনো কারণে মিটার রিডিং ভুলভাবে নেওয়া হলে কিংবা বিলিংয়ের তথ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিল তৈরি হতে পারে। আবার মিটারে ত্রুটি থাকলেও অস্বাভাবিক রিডিং দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকেরা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের রিডিং না মেলার অভিযোগ করেছেন। ২০২৪ সালে জয়পুরহাটে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে মিটার রিডিং ও বিলের রিডিংয়ে অসামঞ্জস্যের কথা উঠে এসেছিল। কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে কুমিল্লাতেও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছিলেন, আগের মাসগুলোর তুলনায় হঠাৎ করে বিল অনেক বেড়ে গেছে এবং মিটার রিডিং সঠিকভাবে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক বেশি মনে হলে সরাসরি মিটার রিডারকে দায়ী করার আগে মিটারের বর্তমান রিডিং ও বিলে উল্লেখ করা রিডিং মিলিয়ে দেখা জরুরি। প্রয়োজনে বিলের কাগজ, পূর্ববর্তী কয়েক মাসের বিল এবং মিটারের ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করা যেতে পারে।

মিটার রিডারের দায়িত্বই হলো নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে গ্রাহকের মিটার থেকে ব্যবহৃত বিদ্যুতের রিডিং সংগ্রহ করা এবং সেটি সঠিকভাবে বিলিং ব্যবস্থায় জমা দেওয়া। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মিটার রিডার কাম-মেসেঞ্জার পদের দায়িত্বের মধ্যেও নিয়মিত মিটার রিডিং সংগ্রহ ও রেকর্ড করার বিষয়টি রয়েছে।

তাই কোনো গ্রাহকের বিল হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে বিষয়টি যাচাই করা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মীকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ভুলটি মিটার রিডিং, মিটার, বিলিং সিস্টেম কিংবা অন্য কোনো কারিগরি সমস্যার কারণেও হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন, প্রকৃত রিডিং যাচাই করলেই সমস্যার কারণ জানা সম্ভব। তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল ছাড়া ঘটনাটির দায় কার—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় গ্রাহকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো বিলের রিডিং ও মিটারের রিডিং মিলিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ করা। এতে ভুল বিল হয়ে থাকলে সেটি সংশোধনের সুযোগ থাকে এবং প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

সব মিলিয়ে, ৫০০ টাকার বিল হঠাৎ ৭ হাজার টাকা হওয়ার দাবিটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রকৃত কারণ জানতে মিটার ও বিলিং তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। আর মিটার রিডারের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দাবিটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *