Headlines

ভাই, এরা ক্যা’টরিনাকেও ছা’লো না!!ক্যা’টরিনাকেও বডিশে’মিং সইতে হয়

ভাই,এরা ক্যাটরিনাকেও ছাড়লো না!!ক্যাটরিনাকেও বডিশেমিং সইতে হয়! 🙂
মা হওয়ার পর বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ যখনই কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও বডিশেমিং করা হচ্ছে।
সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনা প্রথমবার যখন তাঁর স্বামী ভিকি কৌশলের সাথে পরিচালক কুকু কোহলির শেষকৃত্য
অনুষ্ঠানে আসেন, তখন সাধারণ পোশাকে তাঁর ওজন কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে মানুষ কটাক্ষ শুরু করে।

আবার এখন মুকেশ আম্বানির বাড়ির রাজকীয় উৎসবে ক্যাটরিনা একটি পুদিনা-সবুজ রঙের আনারকলি স্যুট পরে আসেন। মা হওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম কোনো বড় উৎসব। এই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হতেই ট্রলকারীরা তাঁর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অসংবেদনশীল মন্তব্য করা শুরু করে।

অনেকেই মন্তব্য করছেন যে ওজন বেড়ে যাওয়ায় ক্যাটরিনা নাকি তাঁর গ্ল্যামার হারিয়ে ফেলেছেন এবং নায়িকা হিসেবে তিনি শেষ হয়ে গেছেন।
মা হওয়ার পর স্বাভাবিক ফোলাভাবকে অনেকে প্লাস্টিক সার্জারির ব্যর্থতা বলে দাবি করছে।
ভাই ক্যাটরিনার বয়স চল্লিশ….৪০ বছর বয়সী একজন নতুন মায়ের কাছে মানুষ এখনো ২০ বছরের তরুণীর মতো জিরো ফিগার আশা করছে!!! মানে হইলো কিছু এইটা??

একটি নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনার পর একজন নারীর শরীরে হরমোনাল এবং বাহ্যিক পরিবর্তন আসবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম, এটাই বিজ্ঞান। যারা ক্যাটরিনার প্লাস্টিক সার্জারির কথা বলছেন, তারা আসলে নারী শরীর এবং মাতৃত্বের মৌলিক বায়োলজিটাই বোঝেন না। পর্দার ‘বার্বি ডল’ ফ্যান্টাসি থেকে বের হয়ে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ম্যাচিউরিটি ট্রলকারীদের নেই।

তারকাদের সবসময় নিখুঁত ও স্লিম পুতুলের মতো সেজে থাকতে হবে এই বিষাক্ত চিন্তা থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত। ক্যাটরিনা তাঁর বাড়তি ওজন লুকিয়ে না রেখে, যেভাবে আছেন সেভাবেই আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। এটা তাঁর দুর্বলতা নয়, বরং সাহস। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মা হওয়ার পর শরীরের প্রতিটি পরিবর্তনই গর্বের, লজ্জার নয়। যারা এরকম নারীর কোমরের মাপ বা গালের ফোলাভাব নিয়ে আলোচনা করে, তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে সন্দেহ জাগে। এই মানসিকতা অত্যন্ত নিচু স্তরের।

যাইহোক, ক্যাটরিনার মতো একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার ক্যারিয়ার এই সস্তা ট্রলে ধ্বংস হবে না।
কিন্তু ভাই, ক্যাটরিনাকেও যদি বডিশেমিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তবে ভাবুন তো আমাদের সমাজের সাধারণ নতুন মায়েরা কতটা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *