কিছু কিছু ঘটনা দেখলে মনে হয় পৃথিবীতে মানবতা আর ভালোবাসা শব্দটা এখনো বেঁচে আছে৷ ![]()
চীনের ইউনান প্রদেশের তরুণ জু চেনহং। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায় সে। এরপর মা দুই ভাইকে দাদির কাছে রেখে নতুন সংসার শুরু করেন। কিছুদিন পর দাদিও মা/রা যান। এরপর থেকেই দুই ভাইয়ের জীবনে নেমে আসে কঠিন সংগ্রাম।
কখনো ডেলিভারি বয়, কখনো নির্মাণশ্রমিক, আবার কখনো অন্য কাজ করে জীবিকা চালিয়েছে তারা। এভাবেই কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে দুই ভাই।
বছরের পর বছর কষ্ট করে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করার জন্য প্রায় ২৫ হাজার ডলার জমিয়েছিল চেনহং। কিন্তু বিয়ের আয়োজন করতে গিয়ে বুঝতে পারে, দাওয়াত দেওয়ার মতো পরিচিত মানুষই তার তেমন নেই!
তাই শেষ পর্যন্ত চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ডুইনে একটি খোলা আমন্ত্রণ জানিয়ে পোস্ট করে সে। তার আবদার ছিল, মানুষ যেন তার বিয়েতে এসে দিনটিকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কারণ, সারা জীবন অবহেলা পাওয়া এই তরুণ অন্তত একবার চেয়েছিল, গ্রামের রাস্তার দুপাশে যেন সারি সারি গাড়ি থাকে, আর সে সবার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
এরপর ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা!
চেনহংয়ের সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন তার বিয়েতে। একসময় অতিথির সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজার!
সবচেয়ে আবেগের বিষয়, অতিথিরা শুধু বিয়ের দাওয়াত খেতেই আসেননি। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়ে এসেছেন নানা উপহার। কেউ ট্রাকভর্তি ফলমূল ও শাকসবজি, কেউ গবাদিপশু, আবার কেউ ফ্রিজ থেকে শুরু করে আস্ত গাড়িও উপহার দিয়েছেন!
এত বড় আয়োজন সামলাতে প্রায় ১৫০ জন শেফ রান্নার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় খাবার তৈরি, কাটা-ধোয়া ও পরিবেশনের কাজে সহযোগিতা করেন।
এই আয়োজনের প্রভাব পড়ে পুরো গ্রামেই। চায়না মোবাইল সেখানে প্রথমবারের মতো ৫জি টাওয়ার স্থাপন করে। বিভিন্ন রাস্তায় করা হয় নতুন আলোর ব্যবস্থা। একসময় যে গ্রামটি ছিল অখ্যাত, সেটিই পরিণত হয় বিশাল এক উৎসবের কেন্দ্রে।
যে ছেলেটি ছোটবেলা থেকে অভাব আর অবহেলার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছে, যার বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার মতো মানুষও ছিল না, তার আনন্দের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার অপরিচিত মানুষ।
সত্যিই, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মানুষ মানুষের আপন হতে পারে। অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে যে ভালোবাসা আর মানবতা প্রয়োজন, এই ঘটনাটি তারই এক অসাধারণ উদাহরণ। ![]()
পৃথিবীতে মানবতা এখনো হা’রিয়ে যায়নি, এই দৃশ্যই তার প্রমাণ
