অন্য কোন কোম্পানিতে এত গা*লাগা*লি দেওয়া হয় না যতটা গা*লাগা*লি দেওয়া হয় গার্মেন্টসে, মা-বাবা চৌদ্দগু*ষ্টি নিউ গালি দেওয়া হয় এই গার্মেন্টসে, আবার সেই গার্মেন্টসে বেতন সবথেকে কম, বর্তমান সময়ে সব কিছু যে দাম গার্মেন্টসের বেতন যদি না বাড়ায় তাহলে গার্মেন্ট শ্রমিকরা এই বেতনে তাদের সংসার চালাতে পারবেনা।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ সেই শিল্পকে সচল রাখা হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবনে কতটা অ%বহেলা, অ%প%মান আর ব%ঞ্চনা রয়েছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?
শ্রমিকদের অ%ভিযোগ, কাজের সামান্য ভু*ল হলে সুপারভাইজাররা মা-বাবা, ভাই-বোন তুলে অ*শ্লী*ল ভাষায় গা%লা%গালি করেন। শুধু তাই নয়, অ*ভিযোগ উঠেছে নারী শ্রমিকসহ কর্মীদের গায়ে হা*ত তোলারও। একজন শ্রমিক কি মানুষ নন? তাঁর কি সম্মান নিয়ে কাজ করার অধিকার নেই?
একজন শ্রমিক মাসে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। সেই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা চলে যায় বাড়িভাড়া ও গ্যাস বিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে। বাকি ৫ হাজার টাকা দিয়ে কীভাবে চলবে একটি পরিবার? কীভাবে চলবে সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, খাবার আর সংসারের অন্যান্য খরচ? মাস শেষ হওয়ার আগেই অনেককে ঋ*ণের বোঝায় পড়তে হয়।
আরও ক*ষ্টের বিষয়, পরিবারের কেউ মা%রা গেলেও সময়মতো ছুটি পাওয়া যায় না বলে অ*ভিযোগ রয়েছে। নিজের অসুস্থতা কিংবা ছোট বাচ্চাকে ডাক্তার দেখানোর মতো জরুরি প্রয়োজনেও ছুটি মেলে না। ছুটি চাইতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করতে হয়, কারও কারও অ*ভিযোগ, পা পর্যন্ত ধ*রতে হয়।
সম্প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকদের আ*ন্দোলনে উঠে এসেছে এমন অনেক অ*ভিযোগ ও দাবি। প্রশ্ন হচ্ছে, এই শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
যে শ্রমিকদের ঘামে তৈরি পোশাক বিদেশের বাজারে যায়, যে শ্রমিকদের পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়, সেই শ্রমিকরাই যদি কর্মস্থলে অ%পমানিত হন, ন্যায্য অধিকার থেকে ব*ঞ্চিত হন, তাহলে এর চেয়ে ক*ষ্টের বিষয় আর কী হতে পারে?
তাঁরা কারও দয়ার পাত্র নন, তাঁরা তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য চান। তাঁরা বিলাসিতা চান না, চান একটু সম্মান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য বেতন এবং বি%পদের সময়টুকু পরিবারের পাশে থাকার অধিকার।
আমরা শুধু একটি প্রশ্ন রাখতে চাই—
গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই অ*ভিযোগ, অ*নিয়ম ও বঞ্চনার দিকে তাকানোর কি কেউ নেই? তাঁদের ক*ষ্টের দিন কি কখনো শেষ হবে না?
মনে রাখবেন, একজন শ্রমিকও কারও সন্তান, কারও বাবা-মা, কারও ভাই-বোন। তাঁরাও মানুষ। তাঁদেরও চোখে স্বপ্ন আছে, বুকে ক*ষ্ট আছে, ঘরে অপেক্ষা করে থাকা একটি পরিবার আছে।
শ্রমিকের ঘাম দিয়ে দেশের অর্থনীতি চলবে, অথচ সেই শ্রমিকের চোখের পানির কোনো মূল্য থাকবে না—এমন বাং*লাদেশ আমরা চা%ই না।
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত হোক। 
