বাড়িতে বাবা না থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধভাবে কয়েকজন ব্যক্তি একটি তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, একদল ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে ওই মেয়েকে নিয়ে যায়। পরে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাকে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মেয়েটির বাবা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িতে এসে মেয়েটিকে বাইরে ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক তাকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের লোকজনকে জানান এবং মেয়েটির সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় চার ঘণ্টা পর মেয়েটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, কোনো নারী বা তরুণীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও নিয়ে যাওয়া গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যেতে পারে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। মেয়েটিকে কী পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কেন তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভুক্তভোগী মেয়েটির শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করা হলে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
