Headlines

পু/রু/ষ/ত্ব ন/ষ্ট হয়ে যাওয়ার ৮টি কারণ হলো

পুরুষের যৌন সক্ষমতা নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। অনেক সময় সাময়িকভাবে ইরেকশন না হওয়া বা ধরে রাখতে না পারাকে ‘পুরুষত্ব নষ্ট’ হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিষয়টি সাধারণত ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) নামে পরিচিত। অর্থাৎ যৌনমিলনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ইরেকশন তৈরি করতে বা তা ধরে রাখতে নিয়মিত সমস্যা হওয়া।

মাঝেমধ্যে এমন সমস্যা হওয়া মানেই কোনো গুরুতর রোগ হয়েছে—এমন নয়। ক্লান্তি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের মতো সাময়িক কারণেও ইরেকশনে সমস্যা হতে পারে। তবে সমস্যাটি বারবার ঘটলে এর পেছনে শারীরিক বা মানসিক কোনো কারণ আছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।

১. ডায়াবেটিস

দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে যৌনাঙ্গে প্রয়োজনীয় রক্তপ্রবাহ ও স্নায়ুর কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়ে ইরেকশন পেতে বা ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। তাই বারবার যৌন সক্ষমতার সমস্যা দেখা দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২. উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ

ইরেকশন তৈরির জন্য পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ, ধমনিতে চর্বি জমা, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদ্‌রোগ রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে যৌন সক্ষমতার সমস্যার সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিরও সম্পর্ক থাকতে পারে।

৩. ধূমপান

ধূমপান রক্তনালির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে। যেহেতু ইরেকশনের জন্য পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন, তাই নিয়মিত ধূমপান ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ধূমপান বন্ধ করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি যৌনস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

৪. অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব সমস্যাও যৌন সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৫. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

যৌন সক্ষমতা শুধু শরীরের ওপর নির্ভর করে না; মস্তিষ্ক ও মানসিক অবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা যৌন সক্ষমতা নিয়ে ভয় ইরেকশন তৈরি বা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় একটি ছোট শারীরিক সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলেও সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ যৌন সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে যৌন সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

৭. কিছু ওষুধ ও হরমোনের সমস্যা

কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্নতা, ব্যথা বা প্রোস্টেটের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ যৌন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলেও যৌন আগ্রহ ও ইরেকশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে কোনো ওষুধ খাওয়ার পর এমন সমস্যা হলে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন হলে ওষুধ পরিবর্তন বা বিকল্প চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৮. স্নায়ু, মেরুদণ্ড বা পেলভিক অঞ্চলের সমস্যা

ইরেকশন তৈরির সঙ্গে মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও রক্তনালির সমন্বিত কাজ জড়িত। তাই মেরুদণ্ড বা পেলভিক অঞ্চলের আঘাত, কিছু স্নায়বিক রোগ কিংবা সংশ্লিষ্ট অস্ত্রোপচারের পর যৌন সক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

এক-দুবার ইরেকশনে সমস্যা হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। কারণ কখনো কখনো ইরেকটাইল ডিসফাংশন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগের মতো অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে।

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখতে পারেন। চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ ও তীব্রতার ওপর।

জীবনযাপনে পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ

ধূমপান বন্ধ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসব অভ্যাস যৌনস্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *